সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনীত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ গুরুত্বপূর্ণ দিন। রাজধানীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ দ্বিতীয় দিনের মতো জেরা করা হবে গুমের শিকার হওয়া ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানকে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আজ মঙ্গলবার এই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আজকের কার্যক্রমের মূল আকর্ষণগুলো হলো,
বিবাদী পক্ষের জেরা, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেমসহ সাত আসামির পক্ষে আইনজীবী তাবারক হোসেন জেরার সূচনা করবেন।
স্টেট ডিফেন্স, ব্যক্তিগত আইনজীবীদের পাশাপাশি রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবীরাও সাক্ষীকে জেরা করার সুযোগ পাবেন।
আসামিদের উপস্থিতি, ঢাকা সেনানিবাসের বিশেষ কারাগারে থাকা র্যাবের সাবেক শীর্ষ ১০ কর্মকর্তাকে আজ কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।
গত ৮ মার্চ প্রথম দফা জেরার সময় আদালতে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন যে, ব্যারিস্টার আরমান কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে গুম হননি, বরং তিনি আট বছর ধরে ‘আত্মগোপনে’ ছিলেন। এমনকি তার লেখা বই ‘আয়নাঘরের সাক্ষী, গুমজীবনের আট বছর’-এ বর্ণিত তথ্যগুলোকেও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়। তবে ব্যারিস্টার আরমান অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ৮ বছর পর ফিরে এসে গত ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন ব্যারিস্টার আরমান। সেখানে তিনি টিএফআই সেলে তার ওপর চলা অবর্ণনীয় নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন।
এই মামলায় মোট ১৭ জন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ছাড়াও পলাতক রয়েছেন তার সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা।




