সর্বশেষ
রাশমিকা-বিজয়ের রূপকথার বিয়ে ও পর্দার পেছনের লড়াই
জনকল্যাণে দৃষ্টান্ত গড়তে চায় জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান
ট্রাম্পের কথা শুনবে না ন্যাটো
লালমনিরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু
 ‘ভালোবাসি’ বলে জয় নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ!
গাইবান্ধায় ভিজিএফ চাল নিয়ে অনিয়ম: চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে সড়ক অবরোধ
মহিমান্বিত রজনী শবে কদর: হাজার মাসের চেয়েও উত্তম এক রাতের সন্ধানে
গণপরিবহনে তেলের রেশনিং তুলে নিলেন সেতুমন্ত্রী
সারাদেশে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস: নামতে পারে দিনের তাপমাত্রা
আজ ব্যারিস্টার আরমানের দ্বিতীয় দফার জেরা
আজ টানা  ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
ঐতিহাসিক আরব বিদ্রোহের কারণ ও ফলাফল
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ
ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিবৃতি দিলেন পুতিন
টিভিতে যত খেলা দেখবেন আজ (৭ মার্চ, ২০২৬)

মহিমান্বিত রজনী শবে কদর: হাজার মাসের চেয়েও উত্তম এক রাতের সন্ধানে

রমজান মাসের শেষ দশকের আগমন মানেই মুমিন হৃদয়ে এক বিশেষ ব্যাকুলতা। এই ব্যাকুলতা ‘লাইলাতুল কদর’ বা শবে কদর পাওয়ার। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি বছরের সবচেয়ে মর্যাদাবান ও বরকতময় রাত। খোদ পবিত্র কুরআনে এই রাতের মহিমা বর্ণনা করতে গিয়ে ‘সুরা আল-কদর’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরা নাজিল হয়েছে। রহমত, মাগফিরাত আর ফেরেশতাদের আগমনে মুখরিত এই রজনী আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য এক বিশেষ উপহার।

কুরআনের আলোয় শবে কদরের মর্যাদা

শবে কদরের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এই রাতেই মানবজাতির মুক্তির সনদ পবিত্র কুরআন লওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

‘নিশ্চয়ই আমি কুরআনকে কদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি।’ (সুরা আল-কদর: ১)

এই এক রাতের ইবাদতকে আল্লাহ তাআলা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ, মাত্র এক রাতের আন্তরিক উপাসনা প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের সমান সওয়াব বয়ে আনতে পারে।

গুনাহ মাফ ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ

শবে কদর কেবল সওয়াব হাসিলের রাত নয়, এটি নিজেকে পরিশুদ্ধ করার এবং অতীতের পাপ মোচনের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:

‘যে ব্যক্তি ইমান ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে ইবাদতে মগ্ন থাকবে, তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি: ১৯০১)

ফেরেশতাদের পদচারণা ও শান্তির বার্তা

সুরা কদরে বর্ণিত হয়েছে যে, এই রাতে জিবরাইল (আ.)-সহ অসংখ্য ফেরেশতা আল্লাহর নির্দেশে পৃথিবীতে নেমে আসেন। তারা ইবাদতকারী বান্দাদের চারপাশ ঘিরে রাখেন এবং তাদের জন্য শান্তির দোয়া করেন। ফজর হওয়া পর্যন্ত সারা বিশ্বে এক অপার্থিব প্রশান্তি বিরাজ করে।

বরেণ্য আলেম ও মুফাসসিরদের দৃষ্টিতে কদর

ইসলামি চিন্তাবিদগণ এই রাতের মাহাত্ম্য নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন,ইমাম কুরতুবী (রহ.) মনে করেন, কুরআন নাজিল হওয়ার কারণেই এই রাত অন্য সব রাতের চেয়ে আলাদা মর্যাদা পেয়েছে।

মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)-এর মতে, এই রাতেই মানুষের পরবর্তী এক বছরের ভাগ্য বা তাকদিরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ইমাম নববী (রহ.) জোর দিয়েছেন এই রাতের ইবাদতের বিশাল সওয়াবের ওপর, যা সাধারণ কোনো সময়ের সাথে তুলনীয় নয়।

শবে কদর কবে?

শবে কদরের নির্দিষ্ট তারিখ মহান আল্লাহ গোপন রেখেছেন যেন বান্দা পুরো শেষ দশক ইবাদতে সচেষ্ট থাকে। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাত) এটি তালাশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে:

‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।’ (মুসলিম: ১১৬৭)

কেন এই গোপনীয়তা?

হজরত আবু জর গিফারী (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, শবে কদর কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। আল্লাহ তাআলা এটি গোপন রেখেছেন যাতে মুমিনরা কেবল একটি রাতের ওপর নির্ভর না করে শেষ ১০ দিন নিরবচ্ছিন্নভাবে ইবাদত, জিকির ও তওবায় মশগুল থাকে।

শবে কদর হলো আল্লাহর রহমতের দরিয়ায় অবগাহন করার রাত। যখন সারা বিশ্বের আকাশ থেকে শান্তি বর্ষিত হয়, তখন অবহেলায় সময় না কাটিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত তসবিহ, কুরআন তিলাওয়াত ও চোখের পানির মাধ্যমে অতিবাহিত করা প্রতিটি মুসলিমের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

 

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ