দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটলো। আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত জোড়া গোলে সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। আফ্রিকান পরাশক্তি সেনেগালের বিপক্ষে ৩–২ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর এক জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। এই জয়ের ফলে ১৯৯৮ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের শেষ ৩২–এ জায়গা করে নিলো তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় নরওয়ে। তবে প্রথমার্ধের সিংহভাগ সময় জুড়েই নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ডদের সামনে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দো মেন্ডি। একের পর এক অসাধারণ সেভে নরওয়েকে গোলবঞ্চিত রাখেন তিনি। তবে ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। মার্কাস পেডারসেনের নিখুঁত শটে ১–০ তে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় নরওয়ে।
বিরতির পরপরই শুরু হয় ‘হালান্ড শো‘। ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে আর্সেনাল মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ডের চমৎকার এক পাস থেকে নরওয়ের ব্যবধান ২–০ করেন ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিন। অবশ্য পিছিয়ে পড়েও লড়াইয়ে ফেরার জোর চেষ্টা চালায় সেনেগাল। ৫৩তম মিনিটে ইসমাইলা সার গোল করে আফ্রিকান শিবিরে আশা জাগিয়েছিলেন।
কিন্তু সেনেগালের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি হালান্ড। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে প্যাট্রিক বার্গের ক্রস থেকে দারুণ এক ভলিতে বল জালে জড়ান তিনি। নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি নরওয়েকে এনে দেন ৩–১ ব্যবধানের নিরাপদ লিড। ম্যাচের শেষ দিকে হ্যাটট্রিকের একটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন এই তারকা স্ট্রাইকার।
নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ে (ইনজুরি টাইম) সেনেগালের ইসমাইলা সার নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৩–২ এ কমালেও তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৩–২ গোলের জয় নিয়ে উল্লাসে মাতে নরওয়ে।
এই জয়ের পর গ্রুপ ‘আই’ থেকে ফ্রান্সের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের পরের রাউন্ড নিশ্চিত করলো নরওয়ে। বর্তমানে দুই ম্যাচে সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স। আগামী ২৭ জুন গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে এই দুই পরাশক্তি।






