বন্ধ্যাত্ব এবং স্ত্রীরোগ আজকের প্রজন্মের বহু দম্পতিদের কাছে এক বড় ধরনের সমস্যা। এই সমস্যা প্রভাব ফেলে দাম্পত্য জীবনে। শুধু দাম্পত্য জীবনেই নয়- এর প্রভাব পড়ে শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রেও।
আমরা অনেকেই বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বলতে সঠিক কিছু জানি না? স্বাভাবিকভাবে যেটা চিন্তা করা হয়, এক বছর ধরে কোনো দম্পতি সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের কোনো সমস্যা নেই, এরপরও যদি স্ত্রীর গর্ভধারণ না হয়, একে আমরা সাধারণত বন্ধ্যাত্ব বা ইনফার্টিলিটি বলছি। কিন্তু এই ইনফার্টালিটি বা বন্ধাত্বের জন্য নারী মৃত্যু ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তবে নারী মৃত্যুর সাথে বন্ধ্যাত্বের কোন যোগসূত্র আছে কি না- চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক দিন থেকেই খতিয়ে দেখছে বিষয়টি। এ ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। আমেরিকার বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি অব পেনসেলভেনিয়ার এক গবেষণায় উঠে এসেছে যেসব নারী বন্ধ্যাত্বে ভুগছেন তাদের মৃত্যু ঝুঁকি সন্তান ধারণ সক্ষম নারীদের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি। যারা বন্ধ্যাত্বে ভোগেন তাদের ব্রেস্ট ক্যানসারের হওয়ার ঝুঁকি বেশি ফলে মৃত্যু দ্রুত হয়।এছাড়া তারা মানসিক ভাবে হতাশ হয়ে পরেন।
সম্প্রতি আমেরিকান সোসাইটি অব রিপ্রডাক্টিভ মেডিকেল সায়েন্সের এক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে এই গবেষণার তথ্য। ঠিক কি কারণে বন্ধ্যাত্বের কারণে নারীরা অল্প বয়সেই মারা যাচ্ছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু পাওয়া যায় নি। কিন্তু দেখা গেছে যে সব নারী সন্তান ধারণে অক্ষম তাদের স্তন ক্যানসার ও দুই ধরণের ডায়াবেটিকসে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। আর এ জন্যই অন্যদের তুলনায় তাদের মৃত্যু ঝুঁকি বেশি থাকে।
বন্ধ্যাত্বের কারণে অনেক সময় স্তনের কিছু কোষ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠে, গবেষণায় উঠে আসে ৪৪ ভাগ নারী অস্বাভাবিক কোষ বা স্তন ক্যানসারে ভুগে শুধু বন্ধ্যাত্বের জন্য। এবং স্বাস্থ্যের এই অবস্থার ফলে প্রায় ৭০ শতাংশ নারী ডায়াবেটিকসে ভুগে। অনেকসময় ওজনও বেড়ে যায়। এবং মানসিকভাবে খুব অস্থির থাকে। তাঁদের প্রতিনিয়ত মৃত্যু ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। তাই
এক জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশে ৬ জন মহিলার মধ্যে ১ জন মহিলা বন্ধ্যাত্বর শিকার। বিশেষজ্ঞের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রা এর জন্য দায়ী। এছাড়াও, অন্যান্য বড় কারণ গুলি হল বেশী বয়েসে বিয়ে, প্রথম গর্ভস্থ শিশুকে গর্ভে নষ্ট করে দেওয়া, অ্যাবরসন, টিউবাল ব্লকেজ মত সমস্যা। তবে জীবনযাত্রায় সচেতন হলে এবং চিকিৎসা করলেই এ সমস্যা সমাধান হতে পারে।