ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রভাব এবার আছড়ে পড়ল ফুটবল ময়দানে। আকাশসীমা বন্ধ আর কূটনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্লে-অফ খেলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে ইরাক জাতীয় দল।খবর আল জাজিরার।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালালে থমকে যায় এই অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন। নিরাপত্তার স্বার্থে ইরাক তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ফুটবলার ও কোচিং স্টাফরা।
ইরাক দলের প্রধান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় তিনি দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারছেন না।
বেশ কিছু দেশের দূতাবাস কার্যক্রম স্থগিত থাকায় দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার এবং মেডিকেল টিমের সদস্যরা মেক্সিকোর ভিসা সংগ্রহ করতে পারছেন না।বিমান চলাচল অনিয়মিত হয়ে পড়ায় সময়মতো মেক্সিকো পৌঁছানো নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আগামী ৩১ মার্চ মেক্সিকোর মনতেরেতে ইরাকের প্লে-অফ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বলিভিয়া ও সুরিনামের মধ্যকার ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। এই ম্যাচে জিতলেই মিলবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বের টিকিট।
ইরাক জাতীয় দল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত ফিফা (FIFA) এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (AFC)-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও এই সংকটের দিকে কড়া নজর রাখছে।
১৯৮৬ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এখন ইরাকের সামনে। ফেবারিট হিসেবে প্লে-অফে নামলেও মাঠের বাইরের এই অস্থিরতা এখন তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি ইরাক উত্তীর্ণ হতে পারে, তবে এশিয়া থেকে নবম দল হিসেবে তারা বিশ্বমঞ্চে পা রাখবে।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসবে বিশ্বকাপের আসর। যেখানে গুয়াদালাহারায় আরেকটি প্লে-অফে অংশ নেবে নিউ ক্যালেডোনিয়া, জ্যামাইকা ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র।







