গানের জন্য দর্শকরা টিকিট কাটেন, স্রেফ গ্ল্যামার দেখতে নয়—এই সত্যটিই যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন সুরের জাদুকরী শ্রেয়া ঘোষাল। সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে লাইভ কনসার্টে গায়কদের ‘লিপ–সিংকিং‘ বা আগে থেকে রেকর্ড করা গানে ঠোঁট মেলানোর প্রবণতা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি।
শ্রেয়ার মতে, মঞ্চে দাঁড়িয়ে লাইভ না গেয়ে কেবল অভিনয় করা একজন শিল্পীর জন্য চরম অপেশাদারত্ব। তিনি বিষয়টিকে সরাসরি দর্শকদের সাথে প্রতারণা হিসেবে দেখছেন। গায়িকা বলেন:
“আমি বুঝতে পারি না মানুষ কীভাবে মঞ্চে দাঁড়িয়ে লিপ–সিংকিং করে! এটা কেবল দর্শকদের ঠকানো নয়, বরং নিজের শিল্পের প্রতিও চরম অবিচার।“
আজকাল অনেক শিল্পীই মঞ্চে পারফরম্যান্সের জৌলুস বাড়াতে গিয়ে গানে ফাঁকি দেন। বিষয়টি নিয়ে শ্রেয়া জানান, এটি মূলত অলসতা ছাড়া আর কিছুই নয়। তার মতে, লাইভ গাওয়ার মধ্যে যে চ্যালেঞ্জ ও রোমাঞ্চ থাকে, তা রেকর্ড করা ট্র্যাকে পাওয়া অসম্ভব।
দর্শকরা শিল্পীর লাইভ গায়কীর ছোটখাটো ত্রুটিসহ শুনতে চান। একদম নিখুঁত গান শুনতে চাইলে তারা বাড়িতেই সিডি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শুনতে পারেন, এর জন্য কনসার্টে আসার প্রয়োজন নেই। প্রযুক্তি সাহায্যকারী হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই একজন গায়কের কণ্ঠের বিকল্প হতে পারে না।
শ্রেয়া ঘোষালের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পরপরই তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সংগীতপ্রেমীরা। নেটিজেনদের মতে, অটোটিউন আর কৃত্রিমতার এই যুগে শ্রেয়ার মতো শিল্পীরাই শুদ্ধ সংগীতের মশাল জ্বালিয়ে রেখেছেন। অনেকেই আকারে–ইঙ্গিতে সেই সব তারকাদের খোঁচা দিয়েছেন, যারা স্টেজে নাচে–গানে চমক দেখাতে গিয়ে মূল গানটিই গাইতে ভুলে যান।
সংগীত জগতে শ্রেয়া ঘোষাল, সুনীধি চৌহান কিংবা সোনু নিগমের মতো শিল্পীরা বরাবরই লাইভ গায়কীর পক্ষে। তারা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, নাচ বা স্টেজ স্টান্টের চেয়ে সুরের জাদুই একজন প্রকৃত শিল্পীর প্রধান শক্তি।







