বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বৈশ্বিক রাজনীতিতে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। এই সংকট নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর সহায়তা চাইলেও, কার্যত তিনি এখন ‘একলা চলো’ নীতিতে পড়তে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ন্যাটোর সরাসরি অস্বীকৃতি এবং জার্মানির অনড় অবস্থান ওয়াশিংটনকে বেশ চাপে ফেলেছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডেরিক মের্ৎসের মুখপাত্র স্টিফেন কর্নলিয়াস সোমবার (১৬ মার্চ) বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ন্যাটোর অবস্থান স্পষ্ট করেন।
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালির এই সংঘাতের সাথে ন্যাটোর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কর্নলিয়াস বলেন:
“ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট, যার প্রধান দায়িত্ব সদস্য দেশগুলোর ভূখণ্ড রক্ষা করা। এই যুদ্ধ ন্যাটোর নয় এবং এখানে জোটের কোনো ভূমিকা থাকার সুযোগ নেই।”
আশ্চর্যের বিষয় হলো, যুদ্ধের শুরুতে চ্যান্সেলর ফ্রেডেরিক মের্ৎস যেখানে ইউরোপের অন্যান্য নেতাদের চেয়েও বেশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলপন্থী ছিলেন, এখন সেখানে সুর বদলেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো শুরু থেকেই এই হামলাকে ‘অবৈধ’ বললেও মের্ৎস তখন ওয়াশিংটনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন:
অর্থনৈতিক ঝুঁকি, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় জার্মানির অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কৌশলগত অনিশ্চয়তা, মের্ৎসের আশঙ্কা, এই সংঘাত থেকে বের হওয়ার কোনো কার্যকর পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে নেই। সামরিক দূরত্ব, জার্মানি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই যুদ্ধ চলাকালীন হরমুজ প্রণালি সচল রাখার কোনো সামরিক অভিযানে তারা অংশ নেবে না।
গত রোববারই ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের সতর্ক করে বলেছিলেন, এই সংকট মোকাবিলায় সহায়তা না করলে তাদের জন্য ‘ভয়াবহ ভবিষ্যৎ’ অপেক্ষা করছে। কিন্তু বার্লিনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল কেউই এই যুদ্ধ শুরুর আগে তাদের সাথে কোনো পরামর্শ করেনি। এমনকি শুরুতে ওয়াশিংটন দম্ভের সাথে জানিয়েছিল যে ইউরোপের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই তাদের।
এখন পরিস্থিতি প্রতিকূল হওয়ার পর ট্রাম্পের এই আকস্মিক সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি মিত্রদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে না। বরং ইউরোপীয় দেশগুলো এখন নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বেশি মনোযোগী।







