ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ এখন এক বিস্ফোরক অধ্যায়ে উপনীত হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক বার্তা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প এক কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতের কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এমন কিছু ঘটতে পারে যা একটি সম্পূর্ণ সভ্যতাকে মানচিত্র থেকে চিরতরে মুছে দিতে সক্ষম। ট্রাম্পের মতে, পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে এই ভয়াবহ ধ্বংসলীলার সম্ভাবনা এখন চরম পর্যায়ে।
হুমকির পাশাপাশি ট্রাম্পের বক্তব্যে এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের নেতৃত্বে এক আমূল ও নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। আগের চেয়ে তুলনামূলক কম কট্টরপন্থী এবং ভিন্ন মানসিকতার নেতৃত্ব এখন ক্ষমতায়। এই পরিবর্তনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ‘বিপ্লবী ও চমৎকার’ কোনো শুভ সূচনার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আজকের রাতটিকে ইতিহাসের অন্যতম এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, গত ৪৭ বছর ধরে চলা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং সংঘাতের রাজনীতির অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তবে এই ‘অবসান’ কি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে নাকি রাজনৈতিক সমঝোতায়—তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
“আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো ধ্বংসলীলা চাই না, তবে বর্তমান পরিস্থিতি সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমি ইরানের সাধারণ মানুষের মঙ্গল কামনা করি।” — ডোনাল্ড ট্রাম্প (ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত বার্তার সারসংক্ষেপ)
পোস্টের শেষে তিনি ইরানের সাধারণ মানুষের মঙ্গল কামনা করে ‘গড ব্লেস দ্য গ্রেট পিপল অফ ইরান’ লিখে তার বার্তাটি শেষ করেন। পুরো বিশ্ব এখন এক চরম অনিশ্চয়তা আর উৎকণ্ঠা নিয়ে ট্রাম্পের এই হুমকির পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছে।
সূত্র: আলজাজিরা।







