২০২৫ সালের বলিউডে এক পশলা টাটকা বাতাসের মতো হাজির হয়েছে সিনেমা ‘সাইয়ারা’। কোনো বড় সুপারস্টার নেই, নেই চোখধাঁধানো গ্ল্যামারাস কাস্টিং—তবুও বক্স অফিসে ৩২৫ কোটির ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সিনেমাটি। তবে এবার খবরের শিরোনামে সিনেমাটির আয় নয়, বরং এর প্রচার কৌশল নিয়ে শাহরুখ খানের বিশেষ প্রশংসা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক মোহিত সুরি জানান, সিদ্ধার্থ আনন্দের এক দিওয়ালি পার্টিতে তাঁর সঙ্গে শাহরুখ খানের দীর্ঘ আড্ডা হয়। সেখানে কিংশাহ ‘সাইয়ারা’র অসাধারণ মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সাধারণত বলিউডে বড় বাজেটের সিনেমা মানেই শহর জুড়ে দৌড়ঝাঁপ, রিয়ালিটি শো-তে হাজিরা আর গাদা গাদা সাক্ষাৎকার। কিন্তু মোহিত সুরি হেঁটেছেন উল্টো পথে। তিনি দুই নবাগত মুখ—আহান পান্ডে ও অনীত পাড্ডাকে প্রচারের সময় জনসমক্ষে আনেননি। শাহরুখের মতে, অভিনেতাদের এভাবে ‘রহস্য’ হিসেবে জিইয়ে রাখাটাই ছিল ছবিটির সাফল্যের তুরুপের তাস।
মোহিত সুরি বলেন, “আমরা প্রচারের পেছনে অর্থ ঢালার চেয়ে সিনেমার গানের পেছনে সময় দেওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলাম।” শাহরুখ খান এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলেন যে, গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে সংগীতে বিনিয়োগ করাটা যে কতটা কার্যকর হতে পারে, ‘সাইয়ারা’ তার প্রমাণ। মূলত দর্শক যেন অভিনেতা নয়, বরং চরিত্রের গভীরে ডুবে যেতে পারে, সেই লক্ষ্যেই নবাগতদের আড়ালে রাখা হয়েছিল।
তবে ‘কৃষ কাপুর’ চরিত্রের জন্য আহান পান্ডেকে বেছে নেওয়া মোহিতের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। পরিচালক জানান, আদিত্য চোপড়া আহানের নাম প্রস্তাব করলেও প্রথম দিকে মোহিত তাঁকে নিতে চাননি। আহানকে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল তিনি বড্ড ‘নরম ও মিষ্টি’ স্বভাবের। দু-তিনটি মিটিংয়ের পর আহানকে ফিরিয়েও দিয়েছিলেন মোহিত।
কিন্তু হাল ছাড়েননি আহান। তাঁর কাজের প্রতি একাগ্রতা এবং কঠোর পরিশ্রম দেখে নিজের সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন পরিচালক। আজ বক্স অফিসের সাফল্যই বলে দিচ্ছে মোহিত সুরির সেই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না।
৩২৫ কোটি রুপির ব্যবসা করে ‘সাইয়ারা’ প্রমাণ করে দিল যে, ভালো গল্প এবং সঠিক পরিকল্পনার কাছে বড় তারকার নামও মাঝেমধ্যে ফিকে হয়ে যায়।






