রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং দলীয় পদমর্যাদাকে পৃথক রাখার নজির সৃষ্টি করতে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বর্তমান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন।
জোনায়েদ সাকির পদত্যাগের পর দলের গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সাকি জানান, রাজনৈতিক দল এবং সরকারকে সম্পূর্ণ আলাদা সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেই তিনি এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে কথা বলেন সাকি। তিনি উল্লেখ করেন:
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সঠিক পদ্ধতি নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক চলমান।তবে এই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামতকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পূর্বনির্ধারিত এই সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি ছাড়াও দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মনির উদ্দীন পাপ্পু, ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখতার, হাসান মারুফ রুমীসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
গত বছরের ৩ নভেম্বর দলের ৫ম জাতীয় সম্মেলনে তিনি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হয়েছিলেন। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের শরিক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে ‘মাথাল’ প্রতীক নিয়ে জয়ী হন তিনি। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারে তিনি প্রথমে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেও বর্তমানে তিনি শুধু পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০০২ সালের ২৯ আগস্ট ‘জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি’ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করে গণসংহতি আন্দোলন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত নিবন্ধন পায় দলটি।






