যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ইরানের প্রভাবশালী দুই প্রয়াত নেতার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ওয়াশিংটন। সম্প্রতি কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান জেনারেল কাশেম সোলেমানি এবং নিরাপত্তা কাউন্সিলের সাবেক প্রধান ড. আলী লারিজানির স্বজনদের আটক ও দেশত্যাগে বাধ্য করার খবর নিশ্চিত করেছে মার্কিন প্রশাসন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শনিবার (৪ এপ্রিল) জানানো হয়, জেনারেল কাশেম সোলেমানির ভাতিজি হামিদেহ সোলেমানি আফশার এবং তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল এজেন্টরা। বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড বাতিল করার পরপরই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বর্তমানে তারা মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (ICE) হেফাজতে রয়েছেন। প্রশাসনের দাবি, লস অ্যাঞ্জেলেসে অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবনযাপন করলেও আফশার নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন বিরোধী প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, হামিদেহ আফশার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা উদযাপন করেছেন এবং আইআরজিসি–র (IRGC) প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির প্রশংসা ও আমেরিকাকে ‘মহা শয়তান‘ হিসেবে অভিহিত করার প্রমাণও পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
একই ধারাবাহিকতায় ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক সচিব ড. আলী লারিজানির মেয়ে ফাতিমেহ আরদেশির–লারিজানি এবং তার স্বামী সৈয়দ কালান্টার মোতামেদি–র আইনি মর্যাদা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাদেরকে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশটিতে প্রবেশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, জেনারেল কাশেম সোলেমানি ২০২০ সালে বাগদাদে মার্কিন হামলায় নিহত হন। অন্যদিকে, ড. আলী লারিজানি চলতি বছরের ১৭ মার্চ এক হামলায় প্রাণ হারান।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, যারা আমেরিকার মাটিতে বসে আমেরিকা–বিরোধী শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করবে, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই জিরো–টলারেন্স নীতি মূলত জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আরব নিউজ








