সর্বশেষ
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন এলাকায় বন্ধ আছে আজ
লিভারপুলকে হারিয়ে এগিয়ে রইল পিএসজি
বিয়ের প্রস্তাব কি গোপন করবেন, নাকি প্রকাশ করবেন
সরকারি দলের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কবে, জানা গেল
আজ রাতে পুরো একটি সভ্যতা চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে: ট্রাম্প
বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রথম সভা সন্ধ্যায়
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন নিয়ে সংসদে রুমিনের ‘কথার পারদ’
এপ্রিলে বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম
প্রাথমিকে অনলাইন ক্লাসের পরিকল্পনা নেই: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
সংসদে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ অর্থমন্ত্রীর
পে স্কেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক, যা জানা গেল
‘নিষেধাজ্ঞা এড়াতে জয় শাহের সঙ্গে বৈঠকের তদ্বির করছেন স্বনামধন্য এক ক্রিকেটার’
গরমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে কাঁচাআম
কুমিল্লার জাঙ্গালিয়ায় পরিত্যক্ত বাসে অগ্নিকাণ্ড

জ্বালানি সংকট ও ক্রমবর্ধমান লোডশেডিং: চ্যালেঞ্জের মুখে বিদ্যুৎ খাত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে ব্যাহত হচ্ছে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন। পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেবল জ্বালানির অভাবে অলস পড়ে আছে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যার ফলে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে সরকার ইতিমধ্যে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে দেশের সকল শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কর্মঘণ্টা এক ঘণ্টা কমিয়ে এনে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এক অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহের ওপর দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। পিডিবি’র তথ্যমতে:

গ্যাস সরবরাহ যদি ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে আসে, তবে উৎপাদন ৪,৫০০ মেগাওয়াটের নিচে চলে যেতে পারে।

আগামী এপ্রিল-মে মাসে বিদ্যুতের সম্ভাব্য চাহিদা দাঁড়াতে পারে ১৮,৫০০ মেগাওয়াট। বিপরীতে সর্বোচ্চ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মাত্র ১৬,২০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, চাহিদার তুলনায় প্রায় ২,৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থেকে যেতে পারে।

গত শনিবার ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লোডশেডিং লক্ষ্য করা গেছে। দিনের বেলা ৭০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং থাকলেও রাতে তা ১,০০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রাজধানী ঢাকার তুলনায় দেশের গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।

মার্চের শুরুতে লোডশেডিং কম থাকলেও ঈদের ছুটির পর তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় হতে পারে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে ভিন্ন কথা:

“চলতি এপ্রিল মাসে দেশে একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।”

যদি এই পূর্বাভাস সত্যি হয়, তবে এসি ও ফ্যানের ব্যবহার বাড়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা বর্তমান ভঙ্গুর উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ও বিদ্যুৎ বিভাগ এখন প্রকৃতির অনুকূল আচরণের দিকেই তাকিয়ে আছে।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ