সর্বশেষ
‘এই স্মৃতি অনেক দিন তাড়িয়ে বেড়াবে’
সফদার ডাক্তার
স্কয়ার গ্রুপে চাকরি, আবেদন ২১ জুলাই পর্যন্ত
দুই দফায় কমলো দাম, জেনে নিন আজকের স্বর্ণের দর
তেহরানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়, পারচিন-পাকদাশতে বিকট বিস্ফোরণ
লোহিত সাগরে হুথি হামলার ওপর জাতিসংঘের নজরদারির মেয়াদ বাড়ল
বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন কারা, যেভাবে দেখবেন
‘আমরা আর মাত্র এক ধাপ দূরে, ফাইনালে উঠতে সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেব’
রাজশাহীতে হু হু করে বাড়ছে মাছের দাম
ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে কি না প্রশ্নে যা বললেন স্কালোনি
৪০ বছরের খরা কাটল মেক্সিকোর, ইকুয়েডরকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে
নেটদুনিয়ায় কেয়া পায়েলের নতুন ভিডিও: রহস্যময় সেই তরুণ কে?
ব্রাজিলের পরের ম্যাচ কবে-কখন, প্রতিপক্ষ কে?
স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজাবে সরকার, ছুটতে হবে না শহরে

শুরু হলো রমজানের মাগফিরাত: আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমার মহিমান্বিত ক্ষণ

রমজানের প্রথম ১০ দিনের রহমত শেষে শুরু হলো দ্বিতীয় দশক —যা মাগফিরাত বা ক্ষমার দশক হিসেবে পরিচিত। এটি কেবল উপবাস থাকার সময় নয়, বরং নিজেকে নতুন করে চেনার এবং মহান রবের দরবারে অতীতের ভুলত্রুটির জন্য সমর্পিত হওয়ার এক বিশেষ সুযোগ।

 

মাগফিরাতের এই সময়ে মুমিনের প্রধান কাজ হলো তওবা ইস্তিগফার। তবে এই তওবা কেবল মুখে উচ্চারিত কিছু শব্দ নয়; এটি হতে হবে অন্তরের গভীর থেকে আসা অনুশোচনা। নিজের ভুল স্বীকার করা এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততা দূর করার মাধ্যমেই এই সময়ের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, স্রষ্টার কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি যাদের প্রতি আমরা অন্যায় করেছি, তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার নৈতিক সাহস অর্জন করাই হলো প্রকৃত তাকওয়া।

পাপের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত না হয়ে নাজাত বা মুক্তির পথে অগ্রসর হওয়া কঠিন। পবিত্র কোরআনের সূরা তাহরিমের নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:

হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো; আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত…”

এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জান্নাতের অনাবিল শান্তির আগে আত্মার পবিত্রতা অপরিহার্য। একইভাবে সূরা নূরে মহান আল্লাহ সকল মুমিনকে তওবার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা চূড়ান্ত সফলতার স্বাদ আস্বাদন করতে পারে।

মাগফিরাত লাভের জন্য কেবল রুটিন মাফিক ইবাদত যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কিছু বিশেষ অনুশীলন, নিয়মিত ইস্তিগফার, প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা। কোরআন নিয়ে ভাবনা, তিলাওয়াতের পাশাপাশি তার অর্থ মর্ম হৃদয়ে ধারণ করা। আচরণে সংযম, জিহ্বা ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে এনে নম্রতা প্রদর্শন।নির্জনতায় আত্মোপলব্ধি,রাতের নির্জনতায় নিজের জীবনকে পর্যালোচনার মাধ্যমে সত্যিকারের অনুতাপ সৃষ্টি করা।

আজকের সমাজে ভুল করাকে স্বাভাবিক মনে করা হলেও, রমজান আমাদের শেখায় যে ভুল স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং এটি একটি অসামান্য নৈতিক শক্তি নিজের ভেতরের অন্ধকারকে জয় করে আলোর পথে ফিরে আসাই হলো রমজানের মূল দর্শন।

মাগফিরাতের এই দিনগুলোতে আমাদের আন্তরিকতা প্রচেষ্টা যদি খাঁটি হয়, তবেই আমরা শেষ ১০ দিনের কাঙ্ক্ষিতনাজাতবা মুক্তির জন্য প্রস্তুত হতে পারব।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে পাপের অন্ধকার থেকে মুক্ত করে হেদায়েতের পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ