সর্বশেষ
হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় ইরানি সামরিক নিয়ন্ত্রণ
Ankhi Alamgir and Rumi are going to Japan to perform songs NF NEWS
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন এলাকায় বন্ধ আছে আজ
লিভারপুলকে হারিয়ে এগিয়ে রইল পিএসজি
বিয়ের প্রস্তাব কি গোপন করবেন, নাকি প্রকাশ করবেন
সরকারি দলের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কবে, জানা গেল
আজ রাতে পুরো একটি সভ্যতা চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে: ট্রাম্প
বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রথম সভা সন্ধ্যায়
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন নিয়ে সংসদে রুমিনের ‘কথার পারদ’
এপ্রিলে বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম
প্রাথমিকে অনলাইন ক্লাসের পরিকল্পনা নেই: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
সংসদে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ অর্থমন্ত্রীর
পে স্কেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক, যা জানা গেল
‘নিষেধাজ্ঞা এড়াতে জয় শাহের সঙ্গে বৈঠকের তদ্বির করছেন স্বনামধন্য এক ক্রিকেটার’

শুরু হলো রমজানের মাগফিরাত: আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমার মহিমান্বিত ক্ষণ

রমজানের প্রথম ১০ দিনের রহমত শেষে শুরু হলো দ্বিতীয় দশক —যা মাগফিরাত বা ক্ষমার দশক হিসেবে পরিচিত। এটি কেবল উপবাস থাকার সময় নয়, বরং নিজেকে নতুন করে চেনার এবং মহান রবের দরবারে অতীতের ভুলত্রুটির জন্য সমর্পিত হওয়ার এক বিশেষ সুযোগ।

 

মাগফিরাতের এই সময়ে মুমিনের প্রধান কাজ হলো তওবা ইস্তিগফার। তবে এই তওবা কেবল মুখে উচ্চারিত কিছু শব্দ নয়; এটি হতে হবে অন্তরের গভীর থেকে আসা অনুশোচনা। নিজের ভুল স্বীকার করা এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততা দূর করার মাধ্যমেই এই সময়ের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, স্রষ্টার কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি যাদের প্রতি আমরা অন্যায় করেছি, তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার নৈতিক সাহস অর্জন করাই হলো প্রকৃত তাকওয়া।

পাপের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত না হয়ে নাজাত বা মুক্তির পথে অগ্রসর হওয়া কঠিন। পবিত্র কোরআনের সূরা তাহরিমের নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:

হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো; আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত…”

এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জান্নাতের অনাবিল শান্তির আগে আত্মার পবিত্রতা অপরিহার্য। একইভাবে সূরা নূরে মহান আল্লাহ সকল মুমিনকে তওবার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা চূড়ান্ত সফলতার স্বাদ আস্বাদন করতে পারে।

মাগফিরাত লাভের জন্য কেবল রুটিন মাফিক ইবাদত যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কিছু বিশেষ অনুশীলন, নিয়মিত ইস্তিগফার, প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা। কোরআন নিয়ে ভাবনা, তিলাওয়াতের পাশাপাশি তার অর্থ মর্ম হৃদয়ে ধারণ করা। আচরণে সংযম, জিহ্বা ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে এনে নম্রতা প্রদর্শন।নির্জনতায় আত্মোপলব্ধি,রাতের নির্জনতায় নিজের জীবনকে পর্যালোচনার মাধ্যমে সত্যিকারের অনুতাপ সৃষ্টি করা।

আজকের সমাজে ভুল করাকে স্বাভাবিক মনে করা হলেও, রমজান আমাদের শেখায় যে ভুল স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং এটি একটি অসামান্য নৈতিক শক্তি নিজের ভেতরের অন্ধকারকে জয় করে আলোর পথে ফিরে আসাই হলো রমজানের মূল দর্শন।

মাগফিরাতের এই দিনগুলোতে আমাদের আন্তরিকতা প্রচেষ্টা যদি খাঁটি হয়, তবেই আমরা শেষ ১০ দিনের কাঙ্ক্ষিতনাজাতবা মুক্তির জন্য প্রস্তুত হতে পারব।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে পাপের অন্ধকার থেকে মুক্ত করে হেদায়েতের পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ