সর্বশেষ
নিজের সুবিধার জন্য বিদায় বেলাতেও আইন পাল্টান ইউনূস
সংসদ নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ: হাইকোর্টে আরও ৫ প্রার্থীর আবেদন
ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু
সারাদেশের আবহাওয়ার খবর: শুষ্ক আবহাওয়া ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস
ইরানের স্কুলে ভয়াবহ হামলা,বালিকা বিদ্যালয়ে ১৬০ শিক্ষার্থী নিহত
মৃত সাগরের তীরে হারিয়ে যাওয়া নগরী
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ১
খামেনির মৃত্যুতে পাকিস্তানে ভয়াবহ বিক্ষোভ, নিহত বেড়ে ২৩
নিজ কার্যালয়ে যেভাবে নিহত হন খামেনি
ঢাকার আকাশ মেঘলা, কমতে  তাপমাত্রা
ঢাবিতে পতাকা উত্তোলন দিবস উদযাপন আজ
ইরানে সামরিক অভিযান: ‘লক্ষ্যপূরণ সময়ের আগেই’, দাবি ট্রাম্পের
শুরু হলো রমজানের মাগফিরাত: আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমার মহিমান্বিত ক্ষণ
বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর আহ্বান ড. ইউনূসের
বাজারে এত বিশৃঙ্খলা যে ট্যাক্স কমিয়েও দাম কমছে না: অর্থ উপদেষ্টা

মৃত সাগরের তীরে হারিয়ে যাওয়া নগরী

প্রাচীন ইতিহাসের এক রহস্যময় অধ্যায় এবং আসমানি কিতাবসমূহে বর্ণিত অভিশপ্ত এক জনপদ ‘সাদোম’। এটি কেবল একটি শহর নয়, বরং ইতিহাসে নৈতিক অবক্ষয় আর ঐশ্বরিক শাস্তির এক জীবন্ত নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি প্রত্নতাত্ত্বিকদের দীর্ঘ গবেষণায় উঠে এসেছে এই হারিয়ে যাওয়া শহরের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ঐতিহাসিকদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ থেকে ১৫৪০ অব্দের মাঝামাঝি সময়ে বর্তমান মৃত সাগরের (Dead Sea) দক্ষিণ তীরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত ছিল এই সাদোম নগরী। অত্যন্ত উর্বর এবং সমৃদ্ধ এই জনপদের মানুষ একসময় লিপ্ত হয় চরম চারিত্রিক বিচ্যুতি ও সমকামিতার মতো জঘন্য পাপাচারে। তৎকালীন নবী হযরত লুত (আ.) তাঁর জাতিকে এসব অপকর্ম থেকে ফিরে আসার বারবার আহ্বান জানালেও তারা তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।

পবিত্র কোরআন ও তাওরাত অনুযায়ী, লুত (আ.)-এর জাতির অবাধ্যতা যখন সীমালঙ্ঘন করে, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ফয়সালা নেমে আসে। সুদর্শন যুবকের বেশে ফেরেশতারা যখন লুত (আ.)-এর অতিথি হয়ে আসেন, তখনো সেই জাতির লোকেরা তাদের কু-উদ্দেশ্যে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়।

পরদিন ভোরে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং আকাশ থেকে পাথর বৃষ্টির মাধ্যমে পুরো শহরটিকে উল্টে দেওয়া হয়। এই ধ্বংসলীলা এতটাই প্রলয়ংকরী ছিল যে, আজ অবধি সেই মৃত সাগর অঞ্চলটি পৃথিবীর নিম্নতম এবং লবণাক্ততম স্থানে পরিণত হয়ে আছে, যেখানে কোনো জীবের অস্তিত্ব টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব।

দীর্ঘদিন ধরে এই শহরটি কেবল ধর্মীয় কিতাবের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকলেও, ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর প্রত্নতাত্ত্বিক বিশ্ব এক বড় ধরনের চমক ।  দীর্ঘ গবেষণা, মার্কিন একদল বিজ্ঞানী প্রায় এক দশকের (২০০৫-২০১৫) নিরলস খননকাজের পর ব্রোঞ্জ যুগের একটি প্রাচীন শহরের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পান।।ভৌগোলিক মিল, খননকৃত স্থানটির অবস্থান, কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য এবং মাটির নিচে চাপা পড়া ছাই ও ধ্বংসের চিহ্নগুলো হুবহু ধর্মীয় গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত বর্ণনার সাথে মিলে যায়।বিজ্ঞানীদের অভিমত,প্রত্নতাত্ত্বিকদের দৃঢ় বিশ্বাস, জর্ডান উপত্যকার এই ধ্বংসাবশেষই হচ্ছে সেই ঐতিহাসিক সাদোম ও গোমোরা।

সাদোম নগরীর এই আবিষ্কার কেবল ইতিহাসের সত্যতাই প্রমাণ করে না, বরং এটি মানবসভ্যতার জন্য এক বিশাল শিক্ষা। একটি সমৃদ্ধ জনপদ কীভাবে নৈতিক স্খলনের কারণে মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে, সাদোম তার এক জলজ্যন্ত উদাহরণ।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ