আমাদের সমাজে প্রায়ই দেখা যায়, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি বাকি সদস্যদের ভরণপোষণ নিয়ে কিছুটা বিরক্ত বা ক্লান্ত বোধ করেন। অথচ এই সমস্যার সমাধান ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হতে পারে দেড় হাজার বছর আগের একটি ছোট্ট ঘটনায়।
সুনানে তিরমিজিতে বর্ণিত একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে দুই ভাই ছিলেন। তাদের একজন সারাদিন নবীজি (সা.)-এর সান্নিধ্যে থেকে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করতেন, আর অন্যজন কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
একদিন কর্মজীবী ভাইটি নবীজি (সা.)-এর কাছে এসে তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন যে, সে কোনো কাজ করে না এবং তার ওপর নির্ভরশীল। অভিযোগ শুনে বিশ্বনবী (সা.) এক চমৎকার কথা বললেন। তিনি বললেন, “সম্ভবত তোমাকে তার কারণেই রিজিক দেওয়া হচ্ছে।” (তিরমিজি: ২৩৪৫)
গবেষক ও আলেমরা এই ঘটনাটি বিশ্লেষণ করে বর্তমান সময়ের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন:
- পরিবারের কোনো সদস্য যদি উচ্চশিক্ষা বা দ্বীনি জ্ঞান অর্জনে ব্রতী হয়, তবে অন্যদের উচিত তাকে মানসিক ও আর্থিক সমর্থন দেওয়া।
- যিনি পরিবারের জন্য পরিশ্রম করছেন, তিনি যেন এটিকে কেবল ‘দায়িত্ব’ না ভেবে ‘ইবাদত’ হিসেবে দেখেন। সওয়াবের নিয়তে উপার্জন করলে মহান আল্লাহ তাকে একইসাথে দান এবং পরিবারের প্রতিপালনের দ্বিগুণ সওয়াব দান করেন।
- পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্য সদস্যদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য বা খোটা দেওয়া উচিত নয়। ধৈর্য ও উদারতা বজায় রাখা একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
- পরিবারের কোনো একজন যদি সৎ কাজ বা ইবাদতে মশগুল থাকেন, তবে তার বরকতে পুরো পরিবার উপকৃত হয়। ঠিক তেমনি, একজন সদস্যের খারাপ কাজের প্রভাবও সবার ওপর পড়তে পারে। তাই ঘরকে নেক আমলের কেন্দ্র বানানো জরুরি।
- তবে মনে রাখতে হবে, এই হাদিসের মূল উদ্দেশ্য কাউকে পরনির্ভরশীল হতে উৎসাহিত করা নয়। বরং এর লক্ষ্য হলো পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও মমত্ববোধ বাড়ানো। ইসলাম কখনোই অলসতাকে প্রশ্রয় দেয় না।
আমাদের রিজিকে কার উছিলায় বরকত আসছে, তা আমরা জানি না। তাই পরিবারের সদস্যদের বোঝা মনে না করে তাদের প্রতি যত্নশীল হওয়াই প্রকৃত ইসলামি আদর্শ।








