মাঠজুড়ে ছিল সোনালী ধানের হাসি, আর কৃষকের চোখে ছিল বুকভরা স্বপ্ন। কিন্তু এক রাতের কালবৈশাখী আর টানা বৃষ্টিতে সেই হাসি এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে। গাইবান্ধার দিগন্তজোড়া মাঠের পাকা ধান এখন মাটির সাথে মিশে আছে। বছরের প্রধান ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে প্রকৃতির এই তাণ্ডবে দিশেহারা হাজারো কৃষক।
গাইবান্ধার আকাশ এখন কৃষকের মনের মতোই মেঘাচ্ছন্ন। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ আর দমকা হাওয়ায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জেলার সাতটি উপজেলার বোরো ক্ষেত। সদর, সাঘাটা, পলাশবাড়ী থেকে শুরু করে সুন্দরগঞ্জ—সবখানেই একই চিত্র। কোথাও ধান গাছ মাটির সাথে লেপ্টে আছে, আবার কোথাও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে বৃষ্টির পানিতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, যে ধান পেকে সোনালী বর্ণ ধারণ করেছিল, সেগুলো নুয়ে পড়ায় দানা পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, দুর্যোগের কারণে এখন ধান কাটার শ্রমিকও মিলছে না। কাদা আর পানিতে ধান কাটতে অনীহা জানাচ্ছেন শ্রমিকরা, আর যারা রাজি হচ্ছেন তারা দাবি করছেন স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ মজুরি।
বাদিয়াখালীর কৃষক কলিম উদ্দিন যেমনটা বলছিলেন— ধারদেনা করে আবাদ করা তিন বিঘা জমির ফসল এখন তার চোখের সামনে নষ্ট হচ্ছে। একদিকে ফসল হারানোর ভয়, অন্যদিকে চড়া মজুরি—সব মিলিয়ে দিশেহারা এই প্রান্তিক চাষিরা। একই করুণ চিত্র পলাশবাড়ীর হরিনাবাড়ী এলাকাতেও; সেখানে নিচু জমির ধান পানিতে পচতে শুরু করেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় বাম্পার ফলনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এই অকাল বৃষ্টি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শত শত হেক্টর জমির ধান এখন ক্ষতির মুখে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ— জমি থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। যেসব জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো দেরি না করে দ্রুত কেটে ফেলতে হবে।
প্রকৃতির এই বৈরী আচরণে গাইবান্ধার কৃষকদের স্বপ্ন এখন ফিকে হওয়ার পথে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দাবি— এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকারি বিশেষ প্রণোদনা এবং কৃষি ঋণের কিস্তি মওকুফ যেন নিশ্চিত করা হয়। নতুবা বছরের প্রধান এই ফসল হারিয়ে চরম খাদ্য সংকটে পড়তে হতে পারে অনেক পরিবারকে।




