সর্বশেষ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
গণসংহতির প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছাড়লেন সাকি
প্রখর তাপদাহে ঘামাচি ও ত্বকের অস্বস্তি: ঘরোয়া সমাধান ও সতর্কতা
আগামী ১৯ মে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন
কালবৈশাখীর পরেই রাজধানীতে ভ্যাপসা গরমের দাপট
যেসব ভুলের কারণে আপনার গাড়ি বেশি তেল পোড়াচ্ছে
ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ: এসিআই মোটরসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
ইমন-মোস্তাফিজের নৈপুণ্যে লাহোরের জয়
২৭ জেলার বাসিন্দাদের জন্য দুঃসংবাদ
আজকের স্বর্ণের বাজারদর
যেসব এলাকায় আজ টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
নেকড়ের মুখোমুখী হয়ে ইসলামের পথে
তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে জাপানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক
বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রভাবে ঢাকা ছাড়তে পারে মানুষ
সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কিনতে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া বন্ধ

নেকড়ের মুখোমুখী হয়ে ইসলামের পথে

ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু বীরের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে, যাদের সাহস আর ক্ষিপ্রতা সমকালীন আরবদের বিস্মিত করত। তাদেরই একজন প্রখ্যাত সাহাবি সালামাহ ইবনে আকওয়া (রা.)। অসাধারণ শারীরিক শক্তি, তীরন্দাজি এবং দৌড়বিশারদ হিসেবে তিনি ছিলেন সাহাবা মহলে কিংবদন্তি। তাঁর উপনাম নিয়ে ইতিহাসবিদদের মাঝে আবু ইয়াস, আবু মুসলিম বা আবু আ-মির—এমন বেশ কিছু মতভেদ থাকলেও তাঁর বীরত্বের বিষয়ে সবাই একমত।

অদ্ভুত এক ঘটনার মধ্য দিয়ে ইসলাম গ্রহণ

সালামাহ (রা.)-এর ইসলাম কবুলের নেপথ্যে রয়েছে এক অলৌকিক ও বিস্ময়কর ঘটনা। বর্ণিত আছে, একবার তিনি এক নেকড়েকে একটি হরিণ শিকার করতে দেখেন। দয়াপরবশ হয়ে তিনি হরিণটিকে নেকড়ের মুখ থেকে কেড়ে নেন। তখন সেই নেকড়ে মানুষের ভাষায় কথা বলে ওঠে এবং তাঁকে তিরস্কার করে বলে— আল্লাহর দেওয়া রিজিক কেন কেড়ে নেওয়া হলো?

বিস্মিত সালামাহ যখন লোকজনকে এই অলৌকিক ঘটনা জানাতে চাইলেন, তখন নেকড়েটি তাঁকে আরও বড় এক আশ্চর্যের সংবাদ দেয়। নেকড়েটি বলে, এর চেয়েও বড় বিস্ময় হলো মদিনায় আল্লাহর রাসুল (সা.) মানুষকে জান্নাতের পথে ডাকছেন, অথচ মানুষ মূর্তিপূজায় লিপ্ত। এই ঘটনাই তাঁর হৃদয়ে পরিবর্তনের বীজ বুনে দেয় এবং তিনি নবীজির দরবারে হাজির হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।

বাইআতে রিযওয়ান ও যুদ্ধযাত্রা

সীরাত গ্রন্থগুলোর তথ্যমতে, সালামাহ (রা.) ষষ্ঠ হিজরির আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ঐতিহাসিক বাইআতে রিযওয়ানে অংশ নেন এবং অনন্য সম্মানের অধিকারী হন। সেই সন্ধিক্ষণে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে একে একে তিনবার আনুগত্যের শপথ বা ‘বাইআত’ গ্রহণ করেছিলেন।

সংগ্রামের ময়দানে তিনি ছিলেন এক অপরাজেয় যোদ্ধা। ঐতিহাসিকদের মতে, তিনি সাকুল্যে ১৪ থেকে ১৬টি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৭টি সরাসরি নবীজির নেতৃত্বে এবং বাকিগুলো বিভিন্ন বিশেষ অভিযানে। যায়েদ ইবনে হারেছা (রা.)-এর কমান্ডেও তিনি ৯টি অভিযানে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শন করেন।

আরবের সেই ‘দ্রুতগামী’ পদাতিক যোদ্ধা

সালামাহ (রা.)-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর অবিশ্বাস্য গতি। বলা হয়, তিনি দৌড়ে ঘোড়াকেও পেছনে ফেলে দিতেন। পদাতিক বাহিনীর যোদ্ধা হয়েও তিনি একাই শত্রুসেনাদের একটি পুরো দলকে তটস্থ করে রাখতেন। শত্রুর সংখ্যা কত বড়, তা নিয়ে তিনি বিচলিত হতেন না; বরং নিজের কৌশল আর তীরের নিখুঁত নিশানায় একাই যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন।

জ্ঞান ও হাদিসচর্চায় অবদান

রণাঙ্গনের পাশাপাশি ইলমি ময়দানেও তাঁর বিচরণ ছিল প্রশংসনীয়। তাঁর থেকে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা মোট ৭৭টি। এর মধ্যে বুখারি ও মুসলিম শরিফ যৌথভাবে ১৬টি হাদিস বর্ণনা করেছে। এছাড়া এককভাবে ইমাম বুখারি ৫টি এবং ইমাম মুসলিম ৯টি হাদিস তাঁর সূত্রে সংকলন করেছেন। তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন ইয়াস, ইয়াজিদ ইবনে উবাইদ এবং মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়্যাহর মতো প্রখ্যাত ব্যক্তিরা।

শেষ বিদায়

জীবনের শেষ দিকে তিনি মদিনার অদূরে ‘রাবাযা’ নামক মরু এলাকায় বসবাস করতেন। তবে মৃত্যুর মাত্র তিন দিন আগে তিনি প্রাণের শহর মদিনায় ফিরে আসেন। ৭৪ হিজরি সনে প্রায় ৮০ বছর বয়সে এই বীর সাহাবি মদিনার পবিত্র মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মদিনার জান্নাতুল বাকিতেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন ইতিহাসের এই অকুতোভয় যোদ্ধা।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ