গ্রীষ্মের তপ্ত রোদ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত। এই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় শরীর অনবরত ঘামতে থাকে। আর এই অতিরিক্ত ঘামই ডেকে আনে ত্বকের নানা জটিলতা। বিশেষ করে ঘামাচি, র্যাশ এবং ছত্রাকজনিত সংক্রমণের কারণে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই কমবেশি ভোগান্তিতে পড়েন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ঘামাচিকে বলা হয় ‘প্রিকলি হিট’। যখন অতিরিক্ত ঘামের কারণে ত্বকের রোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে যায়, তখন ঘাম বাইরে বের হতে না পেরে ত্বকের নিচে জমা হতে থাকে। এর ফলেই লালচে ফুসকুড়ি, জ্বালাপোড়া ও চুলকানির সৃষ্টি হয়। অনেক সময় কাপড়ের ঘর্ষণে বা নখের আঁচড়ে এই সমস্যা আরও প্রকট রূপ ধারণ করে।
অসহ্য এই চুলকানি ও অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি কিছু কার্যকরী ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে:
একটি সুতি কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ নিয়ে আক্রান্ত স্থানে ১০–১৫ মিনিট আলতো করে চেপে ধরুন। এটি ঘামাচির জ্বালা কমাতে এবং নতুন করে ঘাম জমতে বাধা দেবে। দিনে অন্তত ৩–৪ বার এটি করতে পারেন।
ত্বক শীতল রাখতে অ্যালোভেরা জেলের জুড়ি নেই। শুধু অ্যালোভেরার রস বা এর সঙ্গে সামান্য কাঁচা হলুদ মিশিয়ে ব্যবহার করলে অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে।
নিমপাতা প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক। নিমপাতার রসের সাথে গোলাপজল মিশিয়ে ত্বকে লাগালে চুলকানি ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দ্রুত সেরে যায়।
এক কাপ ঠান্ডা পানিতে এক চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। পরিষ্কার কাপড় সেই পানিতে ভিজিয়ে ঘামাচির স্থানে ১০ মিনিট ধরে রাখুন। এটি রোমকূপ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
যা এড়িয়ে চলবেন এবং যা করবেন
১. অনেকেই ঘামাচি হলে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করেন। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে, কারণ পাউডার রোমকূপের মুখ বন্ধ করে সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।
২. গরমে সবসময় হালকা রঙের ও ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরার চেষ্টা করুন। এতে বাতাস চলাচল সহজ হয় এবং ত্বকের ঘর্ষণ কম হয়।
৩. বাইরে থেকে ফেরার পর তো বটেই, সারাদিন বাড়িতে থাকলেও সকালে ও রাতে নিয়ম করে ত্বক পরিষ্কার করুন।
৪. শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করুন।
তীব্র এই গরমে সচেতনতাই পারে আপনার ত্বককে সুস্থ ও সতেজ রাখতে। সাধারণ এই নিয়মগুলো মেনে চললে ঘামাচির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।







