জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আজ এক ব্যতিক্রমী ও আবেগপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তার বক্তব্যে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে গণমানুষের ভালোবাসা এবং চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা প্রাধান্য পেয়েছে।
বক্তব্যের শুরুতেই রুমিন ফারহানা তাকে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য বিএনপিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “মনোনয়ন না পাওয়ায় আমি দেশের মানুষের প্রকৃত ভালোবাসা উপলব্ধি করতে পেরেছি। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত কোটি মানুষের যে দোয়া ও সমর্থন আমি পেয়েছি, তা দলীয় গণ্ডির ভেতর থাকলে হয়তো কখনোই বুঝতে পারতাম না।”
চব্বিশের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে বর্তমান সংসদের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের এই সংসদ হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের ফসল। যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের কেউ মন্ত্রী বা এমপি হওয়ার জন্য রাজপথে নামেননি; তারা ছিলেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা আজ ক্ষমতায় বা বিরোধী দলে বসে আছেন, তারা কি সেই সাধারণ মানুষের স্বপ্নের মর্যাদা দিতে পারছেন? রুমিন ফারহানা বলেন, “শহীদদের স্বপ্ন ছিল বৈষম্যমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার, যেখানে সবার সমান অধিকার থাকবে।”
আন্দোলন চলাকালীন তরুণদের আঁকা দেয়ালচিত্র ও স্লোগানগুলোর কথা স্মরণ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, সাধারণ মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষা কোনো অলীক বিষয় ছিল না। গ্রাফিতিগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, উই ওয়ান্ট জাস্টিস, দেশটা কারো বাপের না, হামার ব্যাটাক মারলু ক্যানে?
রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যের ইতি টানেন এই বলে যে, জুলাইয়ের এই লড়াই কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের লড়াই ছিল না, এটি ছিল প্রচলিত ঘুণে ধরা রাজনীতি ভেঙে একটি নতুন চিন্তার বাংলাদেশ গড়ার লড়াই। তিনি সবাইকে সেই শহীদদের স্বপ্নের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।





