বাবার দেখানো পথেই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জুনিয়র। পর্তুগিজ ফুটবল মহাতারকার অনুপ্রেরণায় যার হাতেখড়ি, সে এখন মাঠ কাঁপাচ্ছে সৌদি ক্লাব আল নাসেরের বয়সভিত্তিক দলে। আর ছেলেকে নিয়ে বড় স্বপ্নের বুনে চলেছেন রোনালদো নিজেও। পর্তুগিজ এই ফরোয়ার্ডের বিশ্বাস, সঠিক একাগ্রতা থাকলে ছেলে একদিন তাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারবে। তবে এই দীর্ঘ সাফল্যের পথে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো ফুটবলের প্রতি সেই আসল ‘ক্ষুধা’ ধরে রাখা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আল নাসেরের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অনুশীলন গভীর মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন রোনালদো। আর সে সময় মাঠে সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে ব্যস্ত ছিল তার বড় ছেলেও।
অনুশীলন দেখার ফাঁকে পাশে বসা ক্লাবের এক কর্মকর্তার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় মেতে ওঠেন সিআরসেভেন। ছেলেকে নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে রোনালদো বলেন, “ও সত্যিই খুব ভালো ছেলে। সত্যি বলতে, বড় ছেলেকে নিয়ে আমায় কোনো ঝক্কি পোহাতে হয় না। বাকি সন্তানরাও বেশ শক্তপোক্ত, বিশেষ করে ছোটরা।”
নিজের বয়ঃসন্ধিকালের সঙ্গে ছেলের তুলনা করতে গিয়ে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা আরও যোগ করেন, “ওর বয়সে আমি যেমন ছিলাম, তার চেয়েও ও শারীরিকভাবে বেশি শক্তিশালী। আমি তো তখন বেশ ছোটখাটো দেখতে ছিলাম! আমার ধারণা, ও আমার চেয়েও বড় হবে। কিন্তু সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো এই খেলার প্রতি ভেতরের ক্ষুধাটা শেষ পর্যন্ত বজায় রাখা।”
২০২২ সালে রোনালদো সৌদি আরবের আল নাসেরে যোগ দেওয়ার পর, ২০২৩ সালে তার ছেলে ক্লাবটির অনূর্ধ্ব-১৩ দলে সুযোগ পায়। এর আগে বাবার সাবেক ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের যুব দলেও খেলার সুযোগ হয়েছিল তার। আল নাসের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অনুশীলনের পাশাপাশি পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সঙ্গে নিজেকে প্রস্তুত করেছে রোনালদো জুনিয়র। এমনকি পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দলের হয়ে অফিসিয়াল ম্যাচও খেলে ফেলেছে সে।
বাবার বিশাল সাফল্যের প্রভাব এড়িয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলাই এখন রোনালদো জুনিয়রের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ। মাঠের পারফর্ম্যান্স আর ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সে কতদূর এগোতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।







