মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বদলে গেল পুরো ম্যাচের দৃশ্যপট। স্বপ্নের খুব কাছে গিয়েও হৃদয়ভঙ্গ হলো ইংল্যান্ডের। থ্রি–লায়ন্সদের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে শেষ মুহূর্তের চরম নাটকীয়তায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের মহারণটি ছিল রোমাঞ্চে ঠাসা। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের চমৎকার এক গোলে লিড নেয় ইংল্যান্ড। গোল হজম করার পরও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় তারা। ম্যাচের ৮২ মিনিটে ড্যান বার্ন যখন মাঠে নামেন, তখনও জয়ের সুবাস পাচ্ছিল ইংলিশ সমর্থকেরা।
কিন্তু ফুটবল বিধাতা যেন শেষের জন্য অন্য এক গল্প লিখে রেখেছিলেন। শেষ মুহূর্তের অল–আউট আক্রমণে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। ৮৫ মিনিটে মহাতারকা লিওনেল মেসির চোখ ধাঁধানো এক পাস থেকে বল পেয়ে আর্জেন্টিনার পক্ষে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ।
নাটকের তখনও বাকি ছিল। ম্যাচ যখন প্রায় অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই আবারও ত্রাতার ভূমিকায় মেসি। যোগ করা সময়ে (ইনজুরি টাইম) মেসির নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়ান লাউতারো মার্তিনেস। ২–১ ব্যবধানের এই অবিশ্বাস্য জয়ে উল্লাসে মাতে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
এমন নাটকীয় হারের পর নিজেদের হতাশা লুকাতে পারেননি ইংলিশ ডিফেন্ডার ড্যান বার্ন। ম্যাচ শেষে ভেঙে পড়া কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি সত্যিই স্তব্ধ। এই পরাজয়ের স্মৃতি আমাদের অনেক দিন তাড়িয়ে বেড়াবে।“
নিজেদের ভুল স্বীকার করে বার্ন আরও যোগ করেন, “আমরা পরিকল্পনা মতোই খেলছিলাম। কিন্তু ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর দল অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে। আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বমানের দলকে এভাবে আক্রমণ করার সুযোগ দিলে তার মাশুল দিতেই হবে।“
উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল জায়গা করে নিয়ে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছিল। যেখানে প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২–০ গোলে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করে স্পেন। এবার ইংল্যান্ডকে বিদায় করে তাদের সঙ্গী হলো আর্জেন্টিনা। আগামী ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে শিরোপা নির্ধারণী মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হবে এই দুই পরাশক্তি।







