বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দীর্ঘ ৪০ বছরের জয়ের খরা কাটাল স্বাগতিক মেক্সিকো। আজতেকা স্টেডিয়ামে বৈরী আবহাওয়া মাড়িয়ে রাউন্ড অব ৩২–এর ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২–০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে হাভিয়ের আগুয়েরের দল। মেক্সিকোর পক্ষে গোল দুটি করেন হুলিয়ান কিনিওনেস ও অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাউল হিমিনেজ।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর মাঠে গড়ায় ম্যাচটি। তবে দেরিতে শুরু হলেও মাঠের দখল নিতে একটুও সময় নেয়নি স্বাগতিকরা। ম্যাচের প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করে ইকুয়েডরকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজালেও মেক্সিকোর প্রথম সাফল্য আসে ২২তম মিনিটে। নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে ওঠা একটি গতিশীল কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পান হুলিয়ান কিনিওনেস। প্রতিপক্ষের অফসাইড ট্র্যাপ ভেঙে একক দক্ষতায় ইকুয়েডরের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এই তারকা। গোলটি নিয়ে শুরুতে অফসাইডের বিতর্ক উঠলেও ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির সাহায্যে দেখা যায়, পাস নেওয়ার মুহূর্তে তিনি নিজের অর্ধেই অবস্থান করছিলেন। ফলে মেক্সিকোর লিড বহাল থাকে।
এর ঠিক ৯ মিনিট পর, অর্থাৎ ৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা। ইকুয়েডরের ডিফেন্ডারদের একটি মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে নেন রাউল হিমেনেস। ডি–বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক নিচু ও নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড।
দুই গোল খেয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া ইকুয়েডর দ্বিতীয়োর্ধে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে। বেশ কিছু আক্রমণও সাজায় তারা, তবে ভাগ্য সহায় ছিল না সফরকারীদের। দলের ফরোয়ার্ড জন ইয়েবোয়ার একটি জোরালো শট মেক্সিকোর গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসলে গোলবঞ্চিত হয় ইকুয়েডর। এরপর কেন্ড্রি পায়েস ও মইসেস কাইসেদোরা বেশ কয়েকবার মেক্সিকোর রক্ষণভাগ ভাঙার চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেননি। স্বাগতিকদের জমাট রক্ষণভাগের কারণে শেষ পর্যন্ত হারের গ্লানি নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ইকুয়েডরকে।
ঐতিহাসিক এই জয়ের পর আগামী ৬ জুলাই শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামবে মেক্সিকো। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার এই লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড ও ডিআর কঙ্গোর মধ্যকার ম্যাচে জয়ী দল।






