গ্যালারিতে তখন হাজারো সমর্থকের একটাই চিৎকার—‘নেইমার, নেইমার’। এনআরজি স্টেডিয়ামে উপস্থিত ফুটবলপ্রেমীদের সবার চোখ ছিল ডাগআউটের দিকে, কখন মাঠে নামবেন ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার। শতভাগ ফিট থাকা সত্ত্বেও জাপানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে মাঠে নামানো হয়নি তাকে। তবে তারকা ফরোয়ার্ডকে ছাড়াই ১–০ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জাপান রক্ষণভাগ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে সেলেসাওদের। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে যাচ্ছে, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে মাঠে নামান আনচেলত্তি। কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিয়ে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে দলকে জয় এনে দেন এই ফরোয়ার্ড। এই জয়ে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে নকআউট পর্বে পা রাখল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নেইমারকে সাইডবেঞ্চে বসিয়ে রাখার মূল কারণ পরিষ্কার করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। নকআউট পর্বের রণকৌশল হিসেবেই অভিজ্ঞ এই তারকাকে খেলানো হয়নি বলে জানান তিনি।
আনচেলত্তি বলেন, “আমি নেইমারকে মূলত অতিরিক্ত সময়ের (এক্সট্রা টাইম) জন্য বাঁচিয়ে রেখেছিলাম। নকআউটের ম্যাচে যেকোনো সময় অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, আর সেই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতেই নেইমারকে দেরিতে নামানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়েই গোল চলে আসায় তাকে আর মাঠে নামানোর প্রয়োজন পড়েনি।“
ভয়াবহ চোট কাটিয়ে দীর্ঘ তিন বছর পর এই বিশ্বকাপ দিয়েই জাতীয় দলে ফিরেছেন নেইমার। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাত্র ১৫ মিনিট খেলেই নিজের চেনা ড্রিবলিং ও চটজলদি আক্রমণে ফিটনেসের জানান দিয়েছিলেন তিনি।
ব্রাজিল কোচের মতে, নেইমার এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ–ফিট। ফলে টুর্নামেন্টের সামনের ম্যাচগুলোতে দলের প্রয়োজনে তিনি আরও বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
নকআউট পর্ব তথা শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্ট। এখন দেখার বিষয়, আগামী ম্যাচে নেইমারকে শুরুর একাদশে দেখা যায় কি না।







