বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ কিংবা যেকোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট মানেই ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার চিরচেনা উন্মাদনা। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও মেতে ওঠেন এই দুই দলের চিরন্তন দ্বন্দ্বে। তবে এই চেনা স্রোতের বিপরীতে গিয়ে এক ভিন্ন চমক দিলেন দুই বাংলার তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। কোটি মানুষের ভিড়ে তার পছন্দের তালিকায় নেই লাতিন আমেরিকার এই দুই পরাশক্তি; তিনি মনে-প্রাণে সমর্থন করেন ইউরোপের দল পর্তুগালকে।
সম্প্রতি ভারতের একটি গণমাধ্যমে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের ফুটবলপ্রেম, ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই গুণী অভিনেত্রী। জয়া জানান, ফুটবল খেলা তিনি ভীষণ পছন্দ করেন। এমনকি গত বিশ্বকাপে সরাসরি রাশিয়ার গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার দারুণ অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। হাস্যরসের ছলে জয়া বলেন, চারপাশের সবাই যখন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে মেতে থাকে, তখন তিনি বুঁদ হয়ে থাকেন পর্তুগালের খেলায়। আর তার অল-টাইম ফেভারিট ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে সিআর সেভেনের পাঁকা ভক্ত হলেও, মাঠের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির খেলারও তিনি একজন বড় প্রশংসক।
ফুটবলের পাশাপাশি এই সাক্ষাৎকারে উঠে আসে জয়া আহসানের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু কথাও। আগামী ১ জুলাই এই তারকার জন্মদিন। বিশেষ এই দিনটি নিয়ে জয়া জানান, আড়ম্বরপূর্ণ বা জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব একদমই পছন্দ নয় তার। ছোটবেলার জন্মদিনের রঙিন স্মৃতিগুলো মনে জমা থাকলেও, এখনকার জন্মদিনগুলো পরিবার, বন্ধু আর ভক্তদের ভালোবাসায় ঘেরা ছিমছাম আবহেই কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি।
তবে ভক্তদের জন্য আসল সুখবর আসছে আগামী জুলাই মাসেই। রুপালি পর্দায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে জয়া আহসান অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত নতুন সিনেমা ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। গুণী পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলীর সুপারহিট চলচ্চিত্র ‘অর্ধাঙ্গিনী’-এর সিক্যুয়েল হিসেবে নির্মিত হয়েছে এই ছবিটি। প্রথম কিস্তির আকাশচুম্বী সাফল্যের পর দ্বিতীয় কিস্তি নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশার পারদটা একটু বেশিই। জয়া নিজেও স্বীকার করলেন সেই মানসিক চাপের কথা। তবে তার বিশ্বাস, এবার গল্পে নাটকীয়তা আরও অনেক বেশি, আর পুরনো চরিত্রগুলোর দীর্ঘ যাত্রার সাথে নতুন কিছু চরিত্রের সংযুক্তি দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করবে।
কলকাতার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিন ধরে সফলতার সাথে কাজ করছেন জয়া। টলিউডে নিজের অবস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই অভিনেত্রী জানান, তিনি মূলত বাংলা ভাষার চলচ্চিত্রের জন্যই কাজ করেন। তাই অন্য দেশের পাসপোর্ট বহন করলেও, কলকাতার ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে গিয়ে নিজেকে কখনো বহিরাগত মনে হয়নি তার। ওপার বাংলার মানুষ ও সহশিল্পীরা তাকে সবসময় নিজেদের মানুষ হিসেবেই আপন করে নিয়েছেন।







