রাজশাহীতে হঠাৎ করেই বেশ চড়া হয়ে উঠেছে সব ধরনের মাছের বাজার। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে জাত ও আকারভেদে প্রতি কেজি মাছের দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে নগরীর নওদাপাড়া পাইকারি মৎস্য আড়তে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতা–বিক্রেতাদের হাঁকডাকে জমজমাট পরিবেশ। তবে আড়তদাররা জানান, বাজারে ক্রেতার চাহিদার তুলনায় আজ মাছের সরবরাহ ছিল বেশ কম। আর এই ঘাটতির কারণেই মূলত দাম ঊর্ধ্বমুখী।
আড়তের তথ্য অনুযায়ী, আজ বাজারে এক কেজি ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়, আর বড় আকারের রুইয়ের দাম ঠেকেছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। এছাড়া মাঝারি আকারের কাতলা ৪৫০ থেকে ৪৭০ টাকা, কালবাউশ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, এবং মাঝারি মৃগেল ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
অন্যান্য মাছের মধ্যে মাঝারি সিলভার কার্প ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, মিনার কার্প ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ২২০ টাকা, এবং মাঝারি পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। এছাড়া পাবদা ও চাষের শিং মাছের কেজি ঠেকেছে ৪০০ টাকায়।
পাইকারি বাজারের এই বাড়তি দামের ধাক্কা লেগেছে খুচরা বাজারেও। আড়ত থেকে মাছ কিনে সাধারণ বাজারে নেওয়ার পর খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজিতে আরও অন্তত ২০ টাকা বেশি দামে তা বিক্রি করছেন। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কাটছে বাড়তি টাকা।
মাছ চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, বৈরি আবহাওয়ার কারণে পুকুর মালিকরা এখন মাছ কম ধরছেন। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে পুকুরে পানি বেশি থাকায় চাষিরা এই সময়ে মাছ ধরে বিক্রির চেয়ে সেগুলোর পরিচর্যা ও আকার বড় করার দিকে বেশি মনোযোগ দেন।
রাজশাহী আমচত্বর মৎস্য আড়ত সমবায় সমিতির সভাপতি ইসরাইল হোসেন পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “বর্ষার এই সময়ে চাষের পুকুরে মাছের মজুদ এমনিতেই কিছুটা কম থাকে। মালিকরা এখন মাছের আকৃতি বাড়াতে ব্যস্ত। যার ফলে বাজারে জোগান কমে গেছে। চলতি মাসের পুরোটা সময় মাছের এই চড়া দাম অব্যাহত থাকতে পারে।“
অবশ্য দাম বাড়ায় সাধারণ ক্রেতারা বিপাকে পড়লেও, মাছ চাষের সাথে সংশ্লিষ্টরা বেশ খুশি। বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় উৎপাদন খরচ মিটিয়ে তারা এবার ভালো লাভের মুখ দেখছেন বলে জানিয়েছেন।
নওদাপাড়ার এই পাইকারি বাজারটি অঞ্চলের অন্যতম বড় মৎস্য কেন্দ্র। এখান থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাছ কিনে ঢাকা করাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠান ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন এই আড়তে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হয়।







