দীর্ঘ আট বছরের প্রতীক্ষার অবসান! অবশেষে সাতপাকে বাঁধা পড়লেন দক্ষিণি সিনেমার মোস্ট টকড কাপল রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা। উদয়পুরের রাজকীয় আবহে কাছের মানুষদের সাক্ষী রেখে শুরু করলেন জীবনের নতুন ইনিংস। কিন্তু এই রূপকথার বিয়ের পথটা কতটা কঠিন ছিল? আজ আমরা জানবো রাশমিকার সেই অজানা সংগ্রামের গল্প।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের উদয়পুরে এক ঘরোয়া কিন্তু আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন এই তারকা জুটি। বিয়ের ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতেই ভক্তদের শুভেচ্ছার জোয়ারে ভাসছেন নবদম্পতি। ছবিতে তাদের চোখেমুখে যে তৃপ্তির হাসি দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাশমিকা তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের এক কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন। ২০১৮ সালে ‘গীতা গোবিন্দম’ সুপারহিট হওয়ার পর যখন বিজয়ের সাথে দ্বিতীয় সিনেমা করার প্রস্তাব আসে, তখন বেঁকে বসেছিল তার পরিবার। তাদের ধারণা ছিল, ফিল্মি দুনিয়া মেয়েদের জন্য খুব একটা নিরাপদ নয়। পরিবারের সদস্যরা চেয়েছিলেন, প্রথম ছবির সাফল্য নিয়েই রাশমিকা যেন অভিনয় জগতকে বিদায় জানান।
রাশমিকা জানান, পরিচালক ভারত কর্মা যখন ‘ডিয়ার কমরেড’ ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে আসেন, তিনি চরিত্রটির প্রেমে পড়ে যান। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় তার পরিবার। তারা সরাসরি বলে দেয় বিজয়ের সাথে আর কোনো কাজ করা যাবে না। রাশমিকা তখন পরিবারকে বোঝান যে, সহ–অভিনেতা কে সেটা বড় কথা নয়; বড় কথা হলো তার অভিনয় সত্ত্বা। লিলি চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার জন্য আক্ষরিক অর্থেই পরিবারের সাথে যুদ্ধ করতে হয়েছে তাকে।
সেই সময়ে পর্দায় বিজয়ের সাথে একটি চুম্বন দৃশ্য নিয়েও কম সমালোচনা হয়নি। বিজয় নিজেও পরবর্তীকালে জানিয়েছিলেন, সেই বিতর্ক রাশমিকার ব্যক্তিগত জীবনে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। হয়তো সেই কারণেই ‘ডিয়ার কমরেড’-এর পর দীর্ঘদিন আর এই জুটিকে একসাথে দেখা যায়নি।
তবে ভক্তদের জন্য সুখবর হলো, বাস্তব জীবনে ঘর বাঁধার পর এবার পর্দায়ও ফিরছে এই ম্যাজিক। অনেক বছর পর আবারও তাদের রসায়ন দেখা যাবে নতুন সিনেমা ‘রাণাবলী’তে।
সব বাধা পেরিয়ে আজ রাশমিকা ও বিজয় এক হয়েছেন। তাদের এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, ভালোবাসা এবং লক্ষ্য ঠিক থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। এই নতুন জুটির জন্য আপনার শুভকামনা জানাতে ভুলবেন না।







