সারাদেশে যখন হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই সামনে এল এক নেতিবাচক খবর। দেশের একমাত্র হাম শনাক্তকরণ কেন্দ্র, মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে দেখা দিয়েছে পরীক্ষার প্রধান উপকরণ বা ‘কিট’ এর তীব্র অভাব। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, হাতে থাকা কিট দিয়ে বড়জোর আগামী এক সপ্তাহ পরীক্ষা চালানো সম্ভব হতে পারে।
বর্তমানে এই ইনস্টিটিউটে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০টি নমুনা জমা পড়ছে। অথচ যেখানে দৈনিক ৭৫০টি নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে, সেখানে সরঞ্জামের অভাবে এখন কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, বর্তমানে মাত্র ১১টি কিট অবশিষ্ট আছে, যা দিয়ে ১ হাজার ৫০০–র বেশি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব নয়।
তবে এই অবস্থাকে সরাসরি ‘সংকট‘ বলতে নারাজ জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মো. মমিনুর রহমান। তার মতে, এটি কেবল কিটের সাময়িক স্বল্পতা। তিনি যুক্তি দিচ্ছেন যে, এই কিটগুলোর মেয়াদ থাকে মাত্র ৬ মাস এবং বিদেশ থেকে আনতেই অনেকটা সময় চলে যায়, যার ফলে বড় কোনো মজুত গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী দু–এক দিনের মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে নতুন চালান হাতে পৌঁছাবে।
এদিকে কিটের এই স্বল্পতাকে চরম অব্যবস্থাপনা হিসেবে দেখছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরীর মতে, এটি স্বাস্থ্য বিভাগ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মধ্যকার সমন্বয়হীনতারই বহিঃপ্রকাশ। দেশে যখন একটি রোগের প্রকোপ বাড়ছে, তখন কেন বিকল্প উৎস রাখা হলো না, সেই প্রশ্নও তুলছেন অনেকে।
দ্রুত কিটের নতুন চালান না পৌঁছালে থমকে যেতে পারে দেশের একমাত্র এই শনাক্তকরণ কেন্দ্রটি। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে এখনই জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।








