সর্বশেষ
ব্যবসা ধসের মাশুল খেলাপি ঋণ
৩৬ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ ডিএসসিসির
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের
ট্রাম্পের শর্ত ছাড়া ইরানের সাথে কোনো চুক্তি নয়: হোয়াইট হাউস
৩২ লাখের কোরবানি: সমালোচনার জবাবে যা বললেন মন্ত্রীর ছেলে
দেশের ৭ অঞ্চলে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
ইরান ইস্যুতে গণমাধ্যমের ওপর চটলেন ট্রাম্প; আবহাওয়ার কারণে বদলাল মন্ত্রিসভার বৈঠক
আরাফাতের ময়দানে লাখো হাজির আকুতি, বিশ্বমঞ্চে ধ্বনিত হলো বাংলা খুতবা
কুয়েতে বাংলাদেশের খাদ্য সহায়তা হস্তান্তর, সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বারোপ
ঈদের দিন যেসব অঞ্চলে ভারি বর্ষণের আভাস
বাংলাদেশি ভাইরাল সেই মহিষ নিয়ে ট্রাম্পের পোস্ট নিয়ে যা জানা গেল
ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
জামায়াতের সঙ্গে জোট করে এনসিপি রাজনৈতিক সতীত্ব হারিয়েছে: রাশেদ খাঁন
দেশের ১১ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন
ফরাসি ফুটবলে পিএসজির রাজত্ব অব্যাহত: রেকর্ড ১৪তম লিগ শিরোপা জয়

ব্যবসা ধসের মাশুল খেলাপি ঋণ

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আবারও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ মার্চভিত্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। এর ফলে মোট খেলাপি ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২.২৬ শতাংশ। বর্তমানে খাতটিতে মোট ঋণের স্থিতি ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যবসায়িক মন্দা এবং নীতিগত দুর্বলতার কারণেই খেলাপি ঋণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিনিয়োগের অনকূল পরিবেশের অভাব এবং নীতিগত সহায়তার ঘাটতিকে দায়ী করা হচ্ছে। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা আইনি ব্যবস্থার শিথিলতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকির অভাবকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন।

বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন: “উচ্চ সুদের হার, ডলারের সংকট, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে সংকটে আছেন। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি তলানিতে নেমেছিল। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আমলে আগামী দুই বছরের মধ্যে বিনিয়োগ পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমরা আশাবাদী, যদি আন্তর্জাতিক ও নীতিগত সহায়তা বজায় থাকে।”

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন ভিন্নমত পোষণ করে বলেন: “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক খেলাপি গ্রাহক ঋণ নবায়ন করায় ডিসেম্বর প্রান্তিকে সাময়িকভাবে খেলাপি ঋণ কমেছিল। আইনি কড়াকড়ি না থাকায় সেগুলো আবারও খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সঠিক সময়ে শক্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় খেলাপি ঋণের এই পাহাড় তৈরি হয়েছে। প্রভাবশালী ও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য আইনের ভিন্ন প্রয়োগ বন্ধ না হলে এই সমস্যা আরও প্রকট হবে।”

তথ্য মতে, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি। এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৪৬ শতাংশ। তবে এসব ব্যাংকে আগের প্রান্তিকের চেয়ে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমেছে। সব মিলিয়ে ওই সব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। আর বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি চার লাখ ১৬ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা, যা তাদের মোট বিতরণ করা ঋণের ৩০.১১ শতাংশ। এ ছাড়া বিদেশি ব্যাংকের তিন হাজার ২৬২ কোটি এবং বিশেষায়িত ব্যাংকের ১৯ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে পড়েছে।

২০০৯ সালের শুরুতে দেশে খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের আমল শেষে ২০২৪ সালের জুনে তা দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায়। ব্যাংকারদের মতে, ওই সময়ে এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো, নাসা ও হলমার্কের মতো বড় বড় গোষ্ঠীর ঋণ জালিয়াতি এবং ন্যাশনাল, ইসলামী ও বেসিক ব্যাংকের কেলেঙ্কারির কারণে এই খাতটি দুর্বল হয়ে পড়ে।

পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ পেতে শুরু করে এবং বিশেষ ছাড়ের মাধ্যমে পুনঃতফসিল করায় সাময়িকভাবে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমলেও, ২০২৬-এর প্রথম প্রান্তিকে তা আবারও লাগামহীন হয়ে পড়েছে।

ব্যবসা-বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি মন্দা, নতুন বিনিয়োগের অভাব, এবং শিল্প-কারখানা বন্ধ বা খুঁড়িয়ে চলার কারণে অনেক উদ্যোক্তা অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। ফলে খেলাপি ঋণের এই ছোঁয়াচে রোগ পুরো অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ