আধুনিক ফ্যাশনের জোয়ারে গা ভাসিয়ে অনেকেই বর্তমানে শরীরে বিভিন্ন ধরনের উল্কি বা ট্যাটু আঁকছেন। তবে ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক এই সংস্কৃতি কেবল অপছন্দনীয়ই নয়, বরং সরাসরি নিষিদ্ধ বা হারাম। সম্প্রতি আলেম-ওলামারা এ বিষয়ে ইসলামের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও এর থেকে পরিত্রাণের উপায় জানিয়েছেন।
শরীয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে উল্কি আঁকা বিজাতীয় ও পাপাচারী সংস্কৃতির অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই কাজের সাথে সম্পৃক্তদের ওপর কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
হাদিসে এসেছে, হজরত ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন— “যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।” (আবু দাউদ)
বুখারি ও মুসলিম শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, যারা উল্কি আঁকে এবং যারা আঁকায়—উভয় পক্ষকেই আল্লাহর রাসুল (সা.) অভিশাপ দিয়েছেন। এছাড়া সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনাকেও কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
ট্যাটু কেবল গুনাহের কাজই নয়, এটি ইবাদতের ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যদি ট্যাটু এমন হয় যার ফলে চামড়ায় পানি পৌঁছাতে পারে না, তবে ওই ব্যক্তির অজু ও ফরজ গোসল সম্পন্ন হবে না।
পবিত্রতা অর্জন না হলে সালাত বা অন্য কোনো ইবাদত কবুল হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। তাই স্থায়ী উল্কি করার আগে এর ভয়াবহতা নিয়ে ভাবা জরুরি।
অনেকেই না বুঝে বা আবেগের বশবর্তী হয়ে শরীরে স্থায়ী ট্যাটু করিয়ে ফেলেন, কিন্তু পরে অনুতপ্ত হন। তাদের ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা হলো, প্রথমেই কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা চাইতে হবে। যদি সম্ভব হয়, তবে কেমিক্যাল বা লেজার ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে তা তুলে ফেলতে হবে। ইবাদত কবুল হওয়ার স্বার্থে একে অপসারণ করা আবশ্যক। ট্যাটু অপসারণ যদি অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয় বা চামড়ার মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে, তবে তওবা করে ইবাদত চালিয়ে যেতে হবে। তবে সবসময় চেষ্টা রাখতে হবে যেন কোনোভাবে তা দূর করা যায়।
ইসলামে মানুষের স্বাভাবিক অবয়ব পরিবর্তন করা অপছন্দনীয়। তাই সাময়িক ফ্যাশনের জন্য চিরস্থায়ী গুনাহ বা ইবাদতে ব্যাঘাত ঘটে এমন কাজ থেকে বিরত থাকাই মুমিনের পরিচয়।








