ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে হামের প্রাদুর্ভাব। প্রতিদিনই আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারানো শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে।
আজ রোববার (১৪ জুন) গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার।
আড়াই বছর বয়সী এই শিশুটির বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায়। গত ৪ জুন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার সকাল ১১টায় সে মারা যায়।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে আরও ২৫টি শিশু হাসপাতালের বিশেষ হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে।
গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৮৭ জন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৯৪০ জন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছে ২৮ জন। বর্তমানে ৯৬টি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা থেকে ল্যাব টেস্টের জন্য পাঠানো মোট ১ হাজার ৩৬২টি নমুনার মধ্যে এ পর্যন্ত ২০৯ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকিদের উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আইসোলেশন ওয়ার্ডে একদিকে যেমন বাড়ছে রোগীর চাপ, অন্যদিকে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন রোগীর স্বজনরা। চিকিৎসাধীন এক শিশুর বাবা আরিফ মিয়া অভিযোগ করে বলেন:
“প্রতিদিনই তো বাচ্চার মরার খবর শুনছি, কিন্তু হাসপাতালের সেবার মান বাড়ছে না। বেড না পেয়ে অনেক শিশুকে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। আইসিইউ–এর তীব্র সংকট। প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ ওষুধই আমাদের বাইরে থেকে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। এমনকি বাথরুমগুলোর অবস্থা এতই নোংরা যে সেখানে যাওয়া যায় না।“
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মমেক হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার জানান, নতুন করে ২৫ জন শিশু ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসকরা সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের চেষ্টা চলছে।





