বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিন দিনের এই হাই-ভোল্টেজ সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও বেইজিং—উভয় পক্ষের মধ্যেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
দেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী চীনের সাথে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে মঙ্গলবার (০৫ মে) বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম বেইজিং সফর, যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সফরের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে আগামীকাল ৬ মে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবশালী নেতা ওয়াং ই’র সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় গুরুত্ব পাবে।
বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে কী থাকছে? সূত্র বলছে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ছাড়াও বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট নিরসন, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। এছাড়া পানি ব্যবস্থাপনা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের মতো ইস্যুগুলো নিয়েও বেইজিংয়ের সাথে বিস্তারিত আলোচনার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর কেবল তার সমকক্ষ নেতার সাথেই সীমাবদ্ধ নয়। একই দিনে তিনি দেশটির উন্নয়ন মন্ত্রী এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাথেও বৈঠকে বসবেন। সফরসঙ্গী হিসেবে সাথে থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
কুনমিং হয়ে বেইজিং পৌঁছানোর পর ব্যস্ত সময় কাটিয়ে আগামী ৭ মে তাদের ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে। নতুন সরকারের অধীনে চীনের সাথে বাংলাদেশের এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।




