দেশের বাজারে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম। স্থানীয় বাজারে ‘তেজাবি’ বা খাঁটি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সবশেষ সমন্বয়ে বাড়ানো হয়েছে এর দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে কার্যকর হচ্ছে এই নতুন মূল্যতালিকা।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতি ভরি স্বর্ণে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী বিভিন্ন মানের স্বর্ণের দাম নিচে দেওয়া হলো:
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এর আগে একই দিন সকালে স্বর্ণের দাম একবার কমানো হয়েছিল, কিন্তু সন্ধ্যার ব্যবধানে তা আবার বৃদ্ধি পায়।
স্বর্ণের দামের এই ঘন ঘন পরিবর্তন এখন নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্যানুযায়ী: এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৬০ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৩ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ২৭ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। চলতি বছর রুপার দাম এখন পর্যন্ত ৩৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ বার বেড়েছে এবং ১৭ বার কমেছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বিত হয়েছিল মাত্র ১৩ বার।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মেলাতে গিয়েই স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দামে এমন ঘন ঘন পরিবর্তন আসছে।







