মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও চরম উত্তেজনা। ইরানের জলসীমায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে একটি মার্কিন ‘এমকিউ–১‘ ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তেহরানের দাবি, ড্রোনটি একটি শত্রুতামূলক মিশন নিয়ে তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
আইআরজিসির নিজস্ব সংবাদ মাধ্যম ‘সেপাহ নিউজ‘-এর বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, রোববার ভোরে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার ওপর ড্রোনটি শনাক্ত করা হয়। এরপর নিজস্ব প্রযুক্তির উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ভূপাতিত করা হয়।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা এবং আকাশসীমা সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো ধরনের বিদেশি আগ্রাসন বা উসকানির জবাব অত্যন্ত কঠোর ও চূড়ান্তভাবে দেওয়া হবে।“
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র সংঘাত শুরু হয়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরাইলি ভূখণ্ড এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
আইআরজিসির তথ্য অনুযায়ী, ৪০ দিনব্যাপী সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল জোটের মধ্যে প্রথমবারের মতো দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতায় ইরান এবং মার্কিন–ইসরাইল জোটের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু রোববারের এই ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনা সেই আপেক্ষিক শান্ত পরিবেশকে আবারও হুমকির মুখে ফেলেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে ড্রোনটি ধ্বংস করার অকাট্য দাবি করা হলেও, ওয়াশিংটনের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির কোনো সত্যতা স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়নি। এছাড়া নিরপেক্ষ বা আন্তর্জাতিক কোনো সূত্র থেকেও ড্রোনটি ভূপাতিত হওয়ার খবরটি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।





