লেবানন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় খসড়া কাঠামো চুক্তিটি বর্তমান রূপে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার ও হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ মিত্র নাবিহ বেরি। তাঁর মতে, এই চুক্তিতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও অধিকারকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) ভোরে তাঁর রাজনৈতিক দল ‘আমাল মুভমেন্ট‘ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে স্পিকার বেরি এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।
নাবিহ বেরি এই চুক্তিকে একটি ‘চাপিয়ে দেওয়া শর্তের দলিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা লেবাননের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ। চুক্তিতে লেবাননের দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের কোনো স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। স্পিকার স্পষ্ট করে বলেছেন, যতদিন না ইসরায়েল লেবাননের মাটি থেকে সেনা সরাচ্ছে এবং সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধ করছে, ততদিন এই চুক্তির কোনো কার্যকারিতা বা অর্থ নেই।
কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বই নয়, লেবাননের সাধারণ মানুষও এই প্রস্তাবিত চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে ইসরায়েলি হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সীমান্ত ও দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারাই এই চুক্তির মূল সমালোচক।
ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশের মতে, চুক্তিটি একেবারেই অসম্পূর্ণ এবং এটি লেবাননকে কোনো নিরাপত্তা দিতে পারবে না।
“যে রাষ্ট্রটি আমাদের ঘরবাড়ি, গ্রাম এবং গোটা জনপদ ধ্বংস করতে সামরিক অভিযান চালিয়েছে, তাদের সাথে এমন একটি চুক্তি মেনে নেওয়া আমার ও আমার পরিবারের পক্ষে অসম্ভব।” — আলী যায়তুন, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর দাহিয়েহর বাসিন্দা (আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে)






