দেশজুড়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জোয়ার বইলেও কিছু জনপদ এখনো আধুনিক নাগরিক সুবিধার বাইরে রয়ে গেছে। তেমনই এক চরম অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকা নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের ‘ডেঙ্গুরকান্দী চর’। চারদিকে নদীবেষ্টিত এই চরাঞ্চলে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস হলেও, আজ পর্যন্ত সেখানে গড়ে ওঠেনি কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র কিংবা চলাচলের উপযোগী সড়ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চারদিকে নদী আর বিস্তীর্ণ চরে ঘেরা ডেঙ্গুরকান্দী মূলত মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এখানকার বাসিন্দাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। শুষ্ক মৌসুমে কোনোমতে চললেও বর্ষাকালে তাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী কিংবা সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল নদী পার হতে হয়।
সবচেয়ে নাজুক অবস্থা চরের শিক্ষা খাতের। পুরো চরে একটিও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় কোমলমতি শিশুরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষার সুযোগ না থাকায় অনেক শিশুই অল্প বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে মাছ ধরা, কৃষিকাজ কিংবা পরিবারের হাল ধরতে শ্রমিকের কাজে যুক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে এখানকার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
একইভাবে এখানকার চিকিৎসাসেবার চিত্রও অত্যন্ত করুণ। চরে নেই কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কোনো ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হলে কিংবা কোনো অন্তঃসত্ত্বা মায়ের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিলে, একমাত্র ভরসা নৌকা করে উপজেলা সদরে যাওয়া। স্থানীয়দের অভিযোগ, যাতায়াতের দীর্ঘ ও দুর্গম পথের কারণে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীকে পথেই প্রাণ হারাতে হয়েছে।
চরাঞ্চলের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বছরের পর বছর ধরে তারা একটি যাতায়াত উপযোগী সড়ক, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী জনগণের দাবি, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত হতে হলে তাদের জন্য দ্রুত এই মৌলিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা জরুরি। স্বাধীনতার এত বছর পরও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এর মাধ্যমে ডেঙ্গুরকান্দী চরের বাসিন্দারাও দেশের মূল স্রোতধারার সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাদের নাগরিক অধিকার ফিরে পাবে।







