পাকিস্তানশাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অবকাঠামোগত উপস্থিতি নয়াদিল্লির নিরাপত্তার জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের অবসরের আগের দিন তিনি এসব কথা বলেন।
জেনারেল দ্বিবেদী অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলটি এখনো ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ এবং তাদের অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
চীন সীমান্ত প্রসঙ্গে বিদায়ী সেনাপ্রধান জানান, ভারত-চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর বর্তমান পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল মনে হলেও তা এখনো বেশ সংবেদনশীল। ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনী কোনোভাবেই আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না এবং সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সীমান্তে শক্তিশালী সামরিক মোায়েন বজায় রাখা হয়েছে।
অবশ্য গত এক বছরে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধির ফলে ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে বলে স্বীকার করেন উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সেনা প্রত্যাহারসংক্রান্ত চুক্তি এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত ইস্যুতে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা, কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় চালুর উদ্যোগ, সরাসরি বিমান চলাচল, সীমান্ত বাণিজ্য এবং ভিসা সহজীকরণের মতো পদক্ষেপগুলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে আলোচনা চললেও ভারত যে তাদের সামরিক প্রস্তুতিতে কোনো ছাড় দিচ্ছে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিদায়ী সেনাপ্রধান। তিনি জানান, সীমান্তে অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক নজরদারি, রসদ সরবরাহ এবং সেনা চলাচলের সক্ষমতা আরও জোরদার করা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকলেও যেকোনো সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় সেনাবাহিনী সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
সবশেষে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরে চীনের বিভিন্ন কৌশলগত ও অবকাঠামোগত কর্মকাণ্ডের ওপর নয়াদিল্লি গভীর নজর রাখছে এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের প্রয়োজনীয় সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখেছে বলে উল্লেখ করেন জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।







