দক্ষিণ লেবাননের মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে একের পর এক সাজানো জনপদ। ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত সামরিক অভিযানে অঞ্চলটি এখন আক্ষরিক অর্থেই এক মৃত্যুপুরী। সম্প্রতি লেবাননের একটি সরকারি সংস্থার প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে উঠে এসেছে ধ্বংসযজ্ঞের এক শিউরে ওঠার মতো চিত্র।
সরকারি তথ্য এবং আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ৫০ শতাংশ আবাসন ইউনিট বা ভবন এখন মাটির সাথে মিশে গেছে। বিমান হামলা, ড্রোন আক্রমণ আর কামানের গোলার আঘাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হাজার হাজার মানুষের স্বপ্ন। বাকি যে অর্ধেক ঘরবাড়ি টিকে আছে, সেগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, সেখানে সাধারণ মানুষের পুনরায় বসবাস শুরু করার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা আপাতত নেই।
এক সময় যে বিন্ত জুবাইল শহরে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের কর্মব্যস্ততা ছিল, আজ তা নিস্তব্ধ ধ্বংসস্তূপ। বর্তমানে সেখানে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের ভিটেমাটির কাছেও ঘেঁষতে পারছেন না।
বসতভিটা হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হওয়া হাজার হাজার পরিবারের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— “আমরা কি আর কোনোদিন ফিরতে পারব?” একদিকে মাথার ওপরের ছাদটুকু নেই, অন্যদিকে বিদেশি সেনার দখলদারিত্ব; সব মিলিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তা গ্রাস করেছে এই জনপদকে। অর্ধেক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস, বাকি অর্ধেক ব্যবহারের অনুপযোগী। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ। হাজার হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে।
দক্ষিণ লেবাননের এই দৃশ্যপট কেবল যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ জনপদের অস্তিত্ব বিলীনের আগাম সংকেত দিচ্ছে। ধ্বংস আর দখলদারিত্বের এই দ্বিমুখী চাপে লেবাননের এই প্রান্ত এখন জনশূন্য এক ধূসর প্রান্তরে পরিণত হয়েছে।








